14

জীবনে যদি শৃঙখলা আনতে চান তবে….

মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু শক্তির জায়গা আছে,প্রতিভা আছে।যে কেউ চাইলেই করতে পারে অনেক বড় কিছু যা হয়তো আপাতদৃষ্টিতে ভাবাই কঠিন।কিন্তু এসব অর্জন কিন্তু কখনোই সহজ নয়।এর জন্য প্রয়োজন একাগ্রতা,অধ্যবসায় আর কঠিন শৃঙখলা।সময়কে কাজে লাগানোকে শৃঙখলার অন্তর্ভুক্ত করা গেলে সফলতা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। আর কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে আসি জীবনে শৃঙখলা অর্জনের কিছু পন্থা!

প্রথমেই আপনার সবচেয়ে বড় দূর্বলতাগুলো খুজে বের করুন। মানসিক প্রস্তুতি নিন দুর্বল জায়গাগুলোতে সময় দেয়ার।দুর্বলতা হতে পারে অধিক পরিমাণে প্রযুক্তিপণ্যে সময় দেয়া কিংবা পড়াশোনার অভ্যাস না থাকা কিংবা কোনো নির্দিস্ট বিষয়ে দখল কম থাকা। দুর্বলতা হতে পারে মানসিক বা বৈষয়িক, খুজে বের করুন এবং লিখে রাখুন।

এবার আগের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে সহজ কিছু অভ্যাস তৈরি করুন।উদাহরণ দিলে বুঝতে সহজ হবে।ধরুন আপনি এখনকার দিনে রাতে ১০ ঘন্টা ঘুমান।এটাকে একবারে ৬ ঘন্টায় নামিয়ে না এনে প্রাথমিকভাবে ৯ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন।এক্ষেত্রে দৃড় থাকতে হবে।মনে রাখতে হবে “যেভাবেই হোক আমি ৯ ঘন্টার বেশি ঘুমাবো না।এ অভ্যাস হয়ে গেলে ঘুম ৮ ঘন্টায় নামিয়ে আনুন।প্রযুক্তি পণ্যে বেশি সময় দেয়ার অভ্যাস থাকলে তাও ধীরে ধীরে কমান।একবারে চাপ নিলে সহজেই হতাশ হয়ে যাবেন।আরেকটা কথা বলে রাখি, কাজের সময় মনোযোগ ছিন্নকারী জিনিসপত্র দূরে রাখুন।

এখন যার কথা বলবো সেই জিনিসটা আমাদের খুব পরিচিত।সেটা হলো নিজকে পুরস্কৃত করুন।কোনো কাজ আগের দিনের চেয়ে ভালোমতো করতে পারলে অথবা কম সময়ে অথবা কোনো কাজ শেষ করতে পারলে নিজকে পুরস্কৃত করুন।বিজ্ঞান বলে এ ধরনের পুরস্কার মস্তিষ্ককে সফল হতে এবং পুরস্কৃত হতে উদ্দীপ্ত করে।তাই হাতের কাছেই রাখুন প্রিয় কোনো খাবার বা চকোলেট।কাজ শেষে বলুন “আমি পেরেছি এবং এটা তার পুরস্কার”।

একটা নিজস্ব মানদণ্ড নির্ধারণ করুন।একটা তালিকা তৈরি করুন যে আপনি প্রতিদিন এই কাজগুলো এতো সময় ধরে করবেনই।যেমন আপনি মাঝেমধ্যেই ৬ ঘন্টা পড়াশোনা করতে পারেন কিন্তু আপনি মানদণ্ড রাখলেন দৈনিক ৪ ঘন্টা পড়াশোনা। এই পর্যায়টা আপনার যথেষ্ট ধৈর্যপরীক্ষা নেবে।নানারকম বাঁধা আসবে।দৃঢ় থাকতে হবে আল্টিমেট গোলের কথা ভেবে।

প্রত্যেকটা কাজের সময় বেঁধে এলার্ম দিয়ে রাখুন।অনেক কাজেই আমরা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি সময় দিয়ে ফেলি।এজন্যই মূলত টাইম ম্যানেজমেন্টে সমস্যা হয়।আপনি ফোন নিয়ে বসলেও এলার্ম দিয়ে রাখুন। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এলার্ম ঘড়িটা রাখবেন একটু দূরে যাতে আপনার জায়গা ছেড়ে উঠতে হয়।এলার্ম বন্ধ করতে গিয়ে আপনার অনুভূতি ফিরে আসবে।

সব পরিস্থিতিতে নিজকে মানিয়ে নেয়া শিখুন।একদিন পড়া কম হতেই পারে।তাই বলে হতাশ হলে চলবেনা।আর সিদ্ধান্ত নিন আপনার নিজের সামর্থ,ভালোলাগা খারাপ লাগা, ক্যারিয়ার বিবেচনা করে।তাহলে আপনাকে হতাশ হতে হবেনা,মনে জোর পাবেন।

সবসময় সামনে তাকান। অতীতের ভুলগুলো ভুলে যান।শুধু সেখান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাটাকে কাজে লাগান।শৃঙখলা এমনিতেই চলে আসবে জীবনে।

শুভকামনা রইল সবার জন্য।

-Mahtab Abdullah Monjur