9

মাইক্রোসফট এক্সেলঃ কিছু কথা

বর্তমান অটোমেশনের যুগে আমাদের প্রায় সবারই মাইক্রোসফট এক্সেলের ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। মাইক্রোসফট এক্সেলে দক্ষতা এখন আর কোনো বিশেষ স্কিল হিসেবে বিবেচনা না করে ব্যাসিক স্কিল হিসেবে আয়ত্বে আনার সময় চলে এসেছে।

আভিধানিক ভাবে এক্সেল শব্দের অর্থ শ্রেষ্ঠতর হওয়া।মাইক্রোসফট এর এ স্প্রেডশীট প্রোগ্রামটি একই সাথে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে নামকরণের যথার্থতার প্রমাণ দিয়েছে।এ প্রোগ্রামের সাহায্যে জটিল হিসাব নিকাশ,তথ্য ব্যবস্থাপনা, চার্ট-গ্রাফের মাধ্যমে আকর্ষণীয়রূপে তথ্যের উপস্থাপনাসহ দ্রুতসময়ে নানা কাজ করা যায়।
মাইক্রোসফট এক্সেল ১৯৮৭ সালে প্রাথমিক সংস্করণের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু করলেও ১৯৯৩ সালে পঞ্চম সংস্করণ তৎকালীন লোটাস সফটওয়ারের লোটাস১-২-৩ প্রোগ্রামকে টপকে শীর্ষে জায়গা করে নেয়।শুরুর দিকে ম্যাকওএস ও উইন্ডোজভিত্তিক এপ্লিকেশন হিসেবে থাকলেও বর্তমানে এক্সেলের মোবাইলে অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ও এন্ড্রয়েড সংস্করণ রয়েছে।

কলাম ও সারিভিত্তিক সেলে বিভক্ত এক্সেলের উইন্ডোতে বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশ করে তথ্য বিশ্লেষণ করা যায় বলে একে ‘স্প্রেডশীট এনালাইসিস প্রোগ্রাম’ বলা হয়।অন্যসব স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে সাথে বিভিন্ন পরিসংখ্যানিক, প্রকৌশলগত এবং অর্থায়ন সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য এক্সেলের নিজস্ব ফাংশন রয়েছে। এক্সেলই প্রথম স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম,যাতে ব্যবহারকারীরা চাইলেই স্প্রেডশিটের ফন্ট, ক্যারেক্টার অ্যাট্রিবিউট, সেলের রঙসহ বিভিন্ন কিছু পরিবর্তন করতে পারে।চার্ট,হিস্ট্রোগ্রাম,গ্রাফের মাধ্যমে তথ্যের উপস্থাপনের জন্য এতে বিভিন্ন টুলস ও রয়েছে।এক্সেলের নিজস্ব প্রোগ্রামিং ভাষা “ভিজুয়াল বেসিক ফর অ্যাপলিকেশন” ব্যবহার করে সাধারণভাবে করতে কঠিন কাজও সহজেই করা যায়।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা সরল-জটিল হিসাব,বেতনবিল,স্যালারি শীট,রেজাল্ট শীট, আয়কর হিসাব তৈরি করা বা চার্ট গ্রাফের মধ্যে পরিসংখ্যান করা কিংবা এসব ডাটা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কাজ এক্সেলের মাধ্যমে করা যায়।পড়াশোনা,চাকরি ব্যবসা সকলক্ষেত্রেই এক্সেলের ব্যবহার প্রয়োজন বিধায় আমাদের সবারই ধৈর্য ধরে এক্সেলে দক্ষতা অর্জন করা উচিত। এক্সেল খুবই সহজ এপ্লিকেশ হওয়ায় এটি শিখতে বিশেষ কোনো দক্ষতার প্রয়োজন নেই।কিন্তু এটি অনেক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হওয়ায় কাজ করে অনুশীলনের মাধ্যমে শিখতে হবে।

-ইসরাত হক জেরিন
জুনিয়র এক্সকিউটিভ,
কন্টেন্ট ডেভলপমেন্ট টীম

nickey-kolev-544018-unsplash.jpg

যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে ব্র‍্যান্ডিং এন্ড প্রমোশনের উপর

সংগঠন “ক” এর কন্টেন্ট টিম এবং গ্রাফিক্স টিম বেশ কিছু দিন হলো কাজে তাল মেলাতে পারছে না, ।

ঠিক এমনই কিছু সমস্যা একজন এইচ আর প্রফেশনালকে প্রায়ই ফেস করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং কর্মপরিবেশ কেমন হবে তা অনেকটাই প্রতিষ্ঠানের এইচ আর ডিপার্টমেন্টের উপর নির্ভর করে। তো চলুন আজ একজন এইচ আর প্রফেশনাল এর চ্যালেঞ্জ গুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

▪ডাইন্যামিক বিজনেস ওয়ার্ল্ডঃ OneDrive, GoTo Meeting, Google Calendar, Evernote ইত্যাদি, বেশ কিছু বছর আগেও কিন্তু এই অফিস টুল গুলোর এত ব্যাবহার ছিল না। আবার এমন অনেক পন্য যা কয়েক বছর আগে ছিলো কিন্তু এখন নেই। এর কারণ কি?

গ্লোবালাইজেশনের কারণে বিজনেস ওয়ার্ল্ডে পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন হচ্ছে এবং তার সাথে তাল মিলিয়ে একজন এইচ আর প্রফেশনালকে চলতে হয়। সময়ের সাথে সাথে বিজনেসে অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে, যেমন- টেকনোলজি, প্রডাক্ট, কম্পিটিশন এই সব কিছুর সাথেই একজন এইচ আরকে কোপ আপ করতে হয়। এই জন্য একজন দক্ষ এইচ আরকে সব সময় এ্যাডাপটিবল এবং প্রোএ্যাকটিভ হতে হয়।

▪ভিশনারিঃ আজকের দিনে বসে ৫ বছর পরের বিজনেস ওয়ার্ল্ড কেমন হবে, তখন মার্কেটের পরিস্থিতি কেমন হবে এবং এমপ্লয়িদের কেমন দক্ষতার প্রয়োজন হবে এটা বুঝতে পারা এইচ আর প্রফেশনালদের জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ আর এর জন্য তাদের প্রচুর স্টাডি করতে হয় মার্কেট এনভায়রনমেন্ট নিয়ে।

▪দক্ষ কর্মী নিয়োগঃ একটা কোম্পানির সুনাম যেমন তাদের কাজের উপর নির্ভর করে, ঠিক তেমনি কোম্পানির কাজের ধরন, মান নির্ভর করে কোম্পানির এমপ্লয়িদের উপর আর এই এমপ্লয়ি কে কোম্পানিতে নিয়ে আসার গুরু দায়িত্ব পালন করেন এইচ আর প্রফেশনালস। হাজার হাজার এপ্লিকেন্টস এর মধ্যে থেকে কোম্পানির জন্য ডেডিকেটেড এবং দক্ষ এমপ্লয়ি বাছাই করা অবশ্যই সহজ কাজ নয়।

▪এমপ্লয়ি নিয়োগে বৈচিত্র্য রাখাঃ একজন এইচ আর প্রফেশনাল কে লক্ষ রাখতে হয় যেন কোম্পানির এমপ্লয়িদের মধ্যে ডাইভার্সিটি থাকে। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম এবং সংস্কৃতির মানুষ তাদের নিজস্বতার মাধ্যমে কোম্পানির কাজগুলোকেও বৈচিত্রময় করে। কিন্তু অনেক সময় এই বৈচিত্র্যময় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা এইচ আর প্রফেশনালদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে যদি এমপ্লয়িরা নিজেদের মধ্যে খাপ খাইয়ে না চলতে পারে।

▪লেজিস্লেশন মেইন্টেনেন্সঃ কোম্পানি আইনের বেশ কিছু রুলস আছে যেগুলো এইচ আর ডিপার্টমেন্টকে ফলো করতে হয়। আবার এই নিয়ম কানুন গুলো অনেক সময় পরিবর্তন হতে পারে সেই দিকেও একজন এইচ আরকে খেয়াল রাখতে হয়। এটা এইচ আর দের কন্ট্রোলের বাহিরের একটা বিষয়।

▪ব্যয় নিয়ন্ত্রণঃ কোম্পানি যে সেক্টরগুলো তে সবথেকে বেশি কস্ট কনজিউম করে তার মধ্যে একটা হলো হিউম্যান রিসোর্স। একটা কোম্পানির যখন লস হওয়া শুরু হয় তখন কোম্পানি তার কর্মীদের আগে ছাঁটাই করা শুরু করে। তাই এইচ আর টিমকে সব সময় বুঝে শুনে কর্মী নিতে হয়। কারণ কর্মী সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে তা কোম্পানির জন্য ব্যয়বহুল আবার কম হয়ে গেলে তা কোম্পানির কাজকে ব্যাহত করবে।

▪এক্সপার্টস নিয়োগঃ এখানে এক্সপার্ট বলতে বোঝানো হচ্ছে স্বতন্ত্র দক্ষতা সম্পন্ন মানব সম্পদের বিন্যাস ঘটানো। যেমন ইম্পলয়িদের মধ্যে কাউকে মার্কেটিং এ, কাউকে ফাইন্যান্স এ, কাউকে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে ইত্যাদি সেক্টর গুলোতে এক্সপার্ট হতে হবে। একটা কোম্পানিতে অবশ্যই সবাই সম স্কিল সম্পন্ন মানুষ থাকতে পারে না। এই পুরো ব্যপারটা এইচ আর টিমের উপর নির্ভরশীল।

▪কর্মীদের মোটিভেটেড রাখাঃ ক্যাম্পাসের একজন সিনিয়র ভাইয়া বেশ কিছু দিন হলো জবে জয়েন করেছেন। উনার মাইডেতে একবার দেখলাম কোম্পানি থেকে ফোন গিফট করেছে, আবার দেখলাম ইয়ার বাটস গিফট করেছে। আমি ভাবতাম কোম্পানির কি টাকা বেশি হয়ে গেলো নাকি! আসোলে এগুলো ইম্পলয়িদের মোটিভেট করার এক একটা পন্থা। ইম্পলয়িরা কোম্পানির প্রতি যত ডেডিকেটেড থাকবে ততো কোম্পানির লাভ আর এই ইম্পয়িদের চাঙ্গা রাখা, মোটিভেটেড রাখা, ডেডিকেটেড রাখা এইচ আর প্রফেশনালদের জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ।

▪কাউন্টার প্রোডাক্টিভিটি কন্ট্রোলঃ কোম্পানিতে সময়ের সাথে সাথে এমন কিছু মানুষের উৎপাত শুরু হয় যারা নিজেরাও প্রোডাক্টিভ না আবার অন্যদের ও প্রোডাক্টিভ হওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করে। এইচ আর টিমকে এই ব্যপারগুলো খেয়াল রাখতে হয় যাতে কোম্পানিতে কাউন্টার প্রোডাক্টিভ বিহেভিয়ার চর্চা কোনো ভাবেই না হয়।

একজন এইচ আর এর লাইফে চ্যালেঞ্জেস এর শেষ নাই। কোম্পানিতে কর্মী নিয়োগের প্লান থেকে শুরু করে, নিয়ন্ত্রণ এবং ছাঁটাই সবই ঐ কোম্পানির এইচ আর টিম নির্ধারণ করেন। তবুও বলার অপেক্ষা রাখে না যে যেখানে কষ্ট বেশি সেখানে মূল্যায়নও বেশি।

একজন এইচ আর প্রফেশনালের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নেতৃত্বগুণ, ধৈর্য্য, সদালাপ, সমস্যা সমাধানে পারদর্শিতা এবং দেশের শ্রম আইন সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হয়।

আপনি এইচ আরে ক্যারিয়ার গড়তে চান? এই চ্যালেঞ্জগুলো নিতে প্রস্তুত তো?

মরিয়ম বিনতে আজাদ বিজয়ী
এক্সিকিউটিভ অব কন্টেন্ট রাইটিং টিম

Website and Visualization

সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে কিছু কথাঃ

বর্তমানে আমরা দ্রুত সময়ে কোনো তথ্য পেতে চাইলে সার্চ ইঞ্জিনে সে সম্পর্কিত কিছু শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান করি।তখন আমাদের অনুসন্ধানের সাথে সম্পর্কিত অনেকগুলো তথ্য আমাদের সামনে চলে আসে।বেশিরভাগ ব্যাবহারকারীই সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম পাতায় যে ওয়েবসাইটগুলো দেখায় সেখানেই ক্লিক করে। তাই আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটকে সামনে নিয়ে আসতে চান তাহলে আপনার এসইও প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। এসইও এর পূর্ণরূপ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান বলতে বোঝায় বিভিন্ন আভ্যন্তরীণ প্যারামিটার ব্যবহার করে একটি ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজকে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের সার্চ বা অনুসন্ধান ফলাফলের তালিকায় প্রথম দিকে দেখানোর চেষ্টা করা যাতে এটি অনুসন্ধান করলে ফলাফলে প্রায়শই দেখা যায়।
সাধারণত অনপেজ এবং অফপেজ দুই ধরনের এসইও দেখা যায়। অনপেজ এসইও হলো ওয়েবসাইটের আভ্যন্তরীণ দিকগুলো সার্চইঞ্জিনের নিয়ম অনুসারে সাজানো যাতে করে ওয়েবসাইটটি ব্যবহারকারীর পছন্দসই হয়।এবং পরবর্তীতেও ব্যবহারকারী তার প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে সে ওয়েবসাইট ভিজিট করে। অফপেইজ এসইও হলো সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজের ভালো র‍্যাঙ্কিং পেতে ওয়েবসাইটের বাইরে যেই কাজগুলো করা হয়। অফপেজে এসইও হলো ওয়েবসাইট এর প্রচারণা অথবা মার্কেটিং করার একটা কৌশল।

সার্চইঞ্জিন তৈরি হয়েছে ব্যবহারকারীদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে উপযুক্ত তথ্য প্রদানের জন্য।এক্ষেত্রে এসইও সেই তথ্যকে সার্চ ইঞ্জিন উপযোগী করে তোলে। সার্চ ইঞ্জিন বটের সাহায্যে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের ডাটাবেজে সে তথ্য সংরক্ষণ করে। গুণগত মান,অনুসন্ধানের সাথে সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে সংরক্ষিত তথ্যগুলোকে বিশ্লেষণ করে র‍্যাঙ্ক অনুসারে সাজিয়ে ব্যবহারকারীর সামনে উপস্থাপন করা হয়।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এসইও বর্তমানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।গ্রাহকেরা এখন বছরে ট্রিলিয়ন বারের বেশি বিভিন্ন পণ্য,সেবা সম্পর্কে জানতে সার্চ ইঞ্জিনে অনুসন্ধান করছে। আমরা জানি প্রচারেই প্রসার।কোম্পানি বা ব্র‍্যান্ডের ওয়েবসাইট তৈরির উদ্দেশ্যই থাকে তাদের পণ্যের প্রসার।যতবেশি মানুষ আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে তত বেশি মানুষ আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানতে পারবে।যখন একটি ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে থাকবে তখন ওয়েবসাইটের ভিজিটর বৃদ্ধি পায়। সার্চ ইঞ্জিনের সাজেশনই ওয়েবসাইটের বেশিরভাগ ভিজিটরের যোগান দেয়।কেননা বেশিরভাগ মানুষই জানেন না তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে।তাই তারা তাদের দেওয়া কীওয়ার্ডের ভিত্তিতে সার্চ ইঞ্জিন যে ওয়েবসাইট সাজেশন প্রদান করে তা অনুসরণ করে। ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারী বাড়ানোর জন্য যদিও পেইড এডভারটাইজিং, সোশ্যাল মিডিয়া ‍এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহৃত হলেও বেশির ভাগ ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটে আসে সার্চ ইঞ্জিন সাজেশন থেকে। তাই গ্রাহকের কাছে সর্বোচচ পরিমাণে পৌছাতে এসইও প্রযুক্তিকৌশলের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।


ইসরাত হক জেরিন
জুনিয়র এক্সিকিউটিভ,
কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট টীম ।

2

জাদুর লেখা!

কী! জাদুর কথা শুনে লেখা পড়তে চলে এসেছেন তাইনা? যে জাদুর কথা বলছি সেটা কিন্তু আপনার ভেতরেও আছে।অবাক লাগছে!
যদি প্রশ্ন করি আপনার পরিবারের মানুষগুলোর সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন অথবা পেশাগত জীবনে আপনার আচার-ব্যবহার কেমন? কিংবা আপনি কি সব পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেন? আপনি কি চাপ নিতে পারেন? আপনার দৃষ্টিভঙ্গী কি ইতিবাচক?
শেষ প্রশ্ন,আপনি কি উপরের বিষয়গুলো অর্জন করে একটা সুন্দর জীবন চান? তাহলে,এই সবগুলো প্রশ্নের একটাই উত্তর।
ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স।
বাংলায় ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সকে আবেগিক বুদ্ধিমত্তাও বলা যেতে পারে।অর্থাৎ আপনি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনার চারপাশের পরিস্থিতিকে কিভাবে দেখছেন আর সামলাচ্ছেন।নিজকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিভাবে পজিটিভ রাখছেন এবং নিজের মেজাজ কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখছেন।
আপনি ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্ট হলে শত চাপের ভেতরেও মাথা ঠান্ডা রাখতে পারবেন আর নিজের সাথে বোঝাপড়াটাও সুন্দর হবে।
এখন প্রশ্ন হলো,এসব গুণ অর্জন করতে হলে কি করতে হবে?নিচে কয়েকটি টিপস দিচ্ছি।
১.সবসময় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন।যাই ঘটুক তার ভেতর ভালো দিকটা খুজুন এবং ঘটনার ত্রুটি না খুজে কারণ খুজুন।
২.মানুষের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করুন।তাহলে তার নেতিবাচক আচরণগুলো অতো খারাপ লাগবে না।
৩.নিজকে সময় দিন।সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ হোন। নিজকে দক্ষ করে তুলুন।
৪.যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন।এটা আপনাকে শক্তিশালী করবে।
৫.কাছের মানুষ আর কলিগদের সাথে যতোটা পারা যায় সুন্দর ব্যবহার করুন।এর ফলাফল দীর্ঘমেয়াদি।
আর সবশেষে আত্মসচেতন হোন।তাহলেই প্রত্যেকটা মুহুর্তে সুন্দর মানুষ হওয়া আপনার জন্যে অনেক অনেক সহজ হয়ে যাবে।

জীবন সুন্দর হোক।

©মাহতাব আব্দুল্লাহ মঞ্জুর