20201019_213655

মাইক্রোসফট এক্সেলের প্রয়োজনীয়তা

মাইক্রোসফট এক্সেলের প্রয়োজনীয়তা বর্তমান অটোমেশনের যুগে আমাদের প্রায় সবারই মাইক্রোসফট এক্সেলের ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। মাইক্রোসফট এক্সেলে দক্ষতা এখন আর কোনো বিশেষ স্কিল হিসেবে বিবেচনা না করে ব্যাসিক স্কিল হিসেবে আয়ত্বে আনার সময় চলে এসেছে।


আভিধানিক ভাবে এক্সেল শব্দের অর্থ শ্রেষ্ঠতর হওয়া।মাইক্রোসফট এর এ স্প্রেডশীট প্রোগ্রামটি একই সাথে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে নামকরণের যথার্থতার প্রমাণ দিয়েছে।এ প্রোগ্রামের সাহায্যে জটিল হিসাব নিকাশ,তথ্য ব্যবস্থাপনা, চার্ট-গ্রাফের মাধ্যমে আকর্ষণীয়রূপে তথ্যের উপস্থাপনাসহ দ্রুতসময়ে নানা কাজ করা যায়


মাইক্রোসফট এক্সেল ১৯৮৭ সালে প্রাথমিক সংস্করণের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু করলেও ১৯৯৩ সালে পঞ্চম সংস্করণ তৎকালীন লোটাস সফটওয়ারের লোটাস১-২-৩ প্রোগ্রামকে টপকে শীর্ষে জায়গা করে নেয়।শুরুর দিকে ম্যাকওএস ও উইন্ডোজভিত্তিক এপ্লিকেশন হিসেবে থাকলেও বর্তমানে এক্সেলের মোবাইলে অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ও এন্ড্রয়েড সংস্করণ রয়েছে।


কলাম ও সারিভিত্তিক সেলে বিভক্ত এক্সেলের উইন্ডোতে বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশ করে তথ্য বিশ্লেষণ করা যায় বলে একে ‘স্প্রেডশীট এনালাইসিস প্রোগ্রাম’ বলা হয়।অন্যসব স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে সাথে বিভিন্ন পরিসংখ্যানিক, প্রকৌশলগত এবং অর্থায়ন সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য এক্সেলের নিজস্ব ফাংশন রয়েছে। এক্সেলই প্রথম স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম,যাতে ব্যবহারকারীরা চাইলেই স্প্রেডশিটের ফন্ট, ক্যারেক্টার অ্যাট্রিবিউট, সেলের রঙসহ বিভিন্ন কিছু পরিবর্তন করতে পারে।চার্ট,হিস্ট্রোগ্রাম,গ্রাফের মাধ্যমে তথ্যের উপস্থাপনের জন্য এতে বিভিন্ন টুলস ও রয়েছে। মাইক্রোসফট এক্সেলের প্রয়োজনীয়তা এক্সেলের নিজস্ব প্রোগ্রামিং ভাষা “ভিজুয়াল বেসিক ফর অ্যাপলিকেশন” ব্যবহার করে সাধারণভাবে করতে কঠিন কাজও সহজেই করা যায়


আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা সরল-জটিল হিসাব,বেতনবিল,স্যালারি শীট,রেজাল্ট শীট, আয়কর হিসাব তৈরি করা বা চার্ট গ্রাফের মধ্যে পরিসংখ্যান করা কিংবা এসব ডাটা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কাজ এক্সেলের মাধ্যমে করা যায়।

পড়াশোনা,চাকরি ব্যবসা সকলক্ষেত্রেই এক্সেলের ব্যবহার প্রয়োজন বিধায় আমাদের সবারই ধৈর্য ধরে এক্সেলে দক্ষতা অর্জন করা উচিত। এক্সেল খুবই সহজ এপ্লিকেশ হওয়ায় এটি শিখতে বিশেষ কোনো দক্ষতার প্রয়োজন নেই।কিন্তু এটি অনেক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হওয়ায় কাজ করে অনুশীলনের মাধ্যমে শিখতে হবে।

ইসরাত হক জেরিন
জুনিয়র এক্সকিউটিভ,
কন্টেন্ট ডেভলপমেন্ট টীম,BAHRN

এইচ আর এডমিন এর কাজ কি হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট

এইচ আর প্রফেশনালকে কিছু সমস্যা প্রায়ই ফেস করতে হয়?

এইচ আর প্রফেশনাল কে কিছু সমস্যা প্রায়ই ফেস করতে হয় যেমন সংগঠন “ক” এর কন্টেন্ট টিম এবং গ্রাফিক্স টিম বেশ কিছু দিন হলো কাজে তাল মেলাতে পারছে না, যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে ব্র‍্যান্ডিং এন্ড প্রমোশনের উপর।

ঠিক এমনই কিছু সমস্যা একজন এইচ আর প্রফেশনালকে প্রায়ই ফেস করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং কর্মপরিবেশ কেমন হবে তা অনেকটাই প্রতিষ্ঠানের এইচ আর ডিপার্টমেন্টের উপর নির্ভর করে। তো চলুন আজ একজন এইচ আর প্রফেশনাল এর চ্যালেঞ্জ গুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

 

ডাইন্যামিক বিজনেস ওয়ার্ল্ডঃ

OneDrive, GoTo Meeting, Google Calendar, Evernote ইত্যাদি, বেশ কিছু বছর আগেও কিন্তু এই অফিস টুল গুলোর এত ব্যাবহার ছিল না। আবার এমন অনেক পন্য যা কয়েক বছর আগে ছিলো কিন্তু এখন নেই। এর কারণ কি?

গ্লোবালাইজেশনের কারণে বিজনেস ওয়ার্ল্ডে পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন হচ্ছে এবং তার সাথে তাল মিলিয়ে একজন এইচ আর প্রফেশনালকে চলতে হয়। সময়ের সাথে সাথে বিজনেসে অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে, যেমন- টেকনোলজি, প্রডাক্ট, কম্পিটিশন এই সব কিছুর সাথেই একজন এইচ আরকে কোপ আপ করতে হয়। এই জন্য একজন দক্ষ এইচ আরকে সব সময় এ্যাডাপটিবল এবং প্রোএ্যাকটিভ হতে হয়।

 

ভিশনারিঃ

আজকের দিনে বসে ৫ বছর পরের বিজনেস ওয়ার্ল্ড কেমন হবে, তখন মার্কেটের পরিস্থিতি কেমন হবে এবং এমপ্লয়িদের কেমন দক্ষতার প্রয়োজন হবে এটা বুঝতে পারা এইচ আর প্রফেশনালদের জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ আর এর জন্য তাদের প্রচুর স্টাডি করতে হয় মার্কেট এনভায়রনমেন্ট নিয়ে।

 

দক্ষ কর্মী নিয়োগঃ

একটা কোম্পানির সুনাম যেমন তাদের কাজের উপর নির্ভর করে, ঠিক তেমনি কোম্পানির কাজের ধরন, মান নির্ভর করে কোম্পানির এমপ্লয়িদের উপর আর এই এমপ্লয়ি কে কোম্পানিতে নিয়ে আসার গুরু দায়িত্ব পালন করেন এইচ আর প্রফেশনালস। হাজার হাজার এপ্লিকেন্টস এর মধ্যে থেকে কোম্পানির জন্য ডেডিকেটেড এবং দক্ষ এমপ্লয়ি বাছাই করা অবশ্যই সহজ কাজ নয়।

 

এমপ্লয়ি নিয়োগে বৈচিত্র্য রাখাঃ

একজন এইচ আর প্রফেশনাল কে লক্ষ রাখতে হয় যেন কোম্পানির এমপ্লয়িদের মধ্যে ডাইভার্সিটি থাকে। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম এবং সংস্কৃতির মানুষ তাদের নিজস্বতার মাধ্যমে কোম্পানির কাজগুলোকেও বৈচিত্রময় করে। কিন্তু অনেক সময় এই বৈচিত্র্যময় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা এইচ আর প্রফেশনালদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে যদি এমপ্লয়িরা নিজেদের মধ্যে খাপ খাইয়ে না চলতে পারে।

 

লেজিস্লেশন মেইন্টেনেন্সঃ

কোম্পানি আইনের বেশ কিছু রুলস আছে যেগুলো এইচ আর ডিপার্টমেন্টকে ফলো করতে হয়। আবার এই নিয়ম কানুন গুলো অনেক সময় পরিবর্তন হতে পারে সেই দিকেও একজন এইচ আরকে খেয়াল রাখতে হয়। এটা এইচ আর দের কন্ট্রোলের বাহিরের একটা বিষয়।

 

ব্যয় নিয়ন্ত্রণঃ

কোম্পানি যে সেক্টরগুলো তে সবথেকে বেশি কস্ট কনজিউম করে তার মধ্যে একটা হলো হিউম্যান রিসোর্স। একটা কোম্পানির যখন লস হওয়া শুরু হয় তখন কোম্পানি তার কর্মীদের আগে ছাঁটাই করা শুরু করে। তাই এইচ আর টিমকে সব সময় বুঝে শুনে কর্মী নিতে হয়। কারণ কর্মী সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে তা কোম্পানির জন্য ব্যয়বহুল আবার কম হয়ে গেলে তা কোম্পানির কাজকে ব্যাহত করবে।

 

এক্সপার্টস নিয়োগঃ

এখানে এক্সপার্ট বলতে বোঝানো হচ্ছে স্বতন্ত্র দক্ষতা সম্পন্ন মানব সম্পদের বিন্যাস ঘটানো। যেমন ইম্পলয়িদের মধ্যে কাউকে মার্কেটিং এ, কাউকে ফাইন্যান্স এ, কাউকে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে ইত্যাদি সেক্টর গুলোতে এক্সপার্ট হতে হবে। একটা কোম্পানিতে অবশ্যই সবাই সম স্কিল সম্পন্ন মানুষ থাকতে পারে না। এই পুরো ব্যপারটা এইচ আর টিমের উপর নির্ভরশীল।

 

কর্মীদের মোটিভেটেড রাখাঃ

ক্যাম্পাসের একজন সিনিয়র ভাইয়া বেশ কিছু দিন হলো জবে জয়েন করেছেন। উনার মাইডেতে একবার দেখলাম কোম্পানি থেকে ফোন গিফট করেছে, আবার দেখলাম ইয়ার বাটস গিফট করেছে। আমি ভাবতাম কোম্পানির কি টাকা বেশি হয়ে গেলো নাকি! আসোলে এগুলো ইম্পলয়িদের মোটিভেট করার এক একটা পন্থা। ইম্পলয়িরা কোম্পানির প্রতি যত ডেডিকেটেড থাকবে ততো কোম্পানির লাভ আর এই ইম্পয়িদের চাঙ্গা রাখা, মোটিভেটেড রাখা, ডেডিকেটেড রাখা এইচ আর প্রফেশনালদের জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ

 

কাউন্টার প্রোডাক্টিভিটি কন্ট্রোলঃ

কোম্পানিতে সময়ের সাথে সাথে এমন কিছু মানুষের উৎপাত শুরু হয় যারা নিজেরাও প্রোডাক্টিভ না আবার অন্যদের ও প্রোডাক্টিভ হওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করে। এইচ আর টিমকে এই ব্যপারগুলো খেয়াল রাখতে হয় যাতে কোম্পানিতে কাউন্টার প্রোডাক্টিভ বিহেভিয়ার চর্চা কোনো ভাবেই না হয়।

একজন এইচ আর এর লাইফে চ্যালেঞ্জেস এর শেষ নাই। কোম্পানিতে কর্মী নিয়োগের প্লান থেকে শুরু করে, নিয়ন্ত্রণ এবং ছাঁটাই সবই ঐ কোম্পানির এইচ আর টিম নির্ধারণ করেন। তবুও বলার অপেক্ষা রাখে না যে যেখানে কষ্ট বেশি সেখানে মূল্যায়নও বেশি।

একজন এইচ আর প্রফেশনালের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নেতৃত্বগুণ, ধৈর্য্য, সদালাপ, সমস্যা সমাধানে পারদর্শিতা এবং দেশের শ্রম আইন সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হয়

আপনি এইচ আরে ক্যারিয়ার গড়তে চান? এই চ্যালেঞ্জগুলো নিতে প্রস্তুত তো?

মরিয়ম বিনতে আজাদ বিজয়ী
এক্সিকিউটিভ অব কন্টেন্ট রাইটিং টিম