2

পাবলিক স্পিকিংয়ের রহস্যভেদঃ পর্ব ১

এবার আমাদের সামনে নিজের সম্পর্কে বলবেন মি. শুভ।(হাততালি)।সবাই তো হাততালি দিচ্ছে কিন্তু আপনার তো ভেতরে ভেতরে বারোটা বেজে যাচ্ছে।এখন আপনাকে অনেকগুলো লোকের সামনে কথা বলতে হবে।আপনি নিশ্চয়ই জানেন এটাকেই পাবলিক স্পিকিং বলে।দশজন লোকের সামনে তাদের মন মানসিকতা বুঝে তাদের সাথে কথা বলাই পাবলিক স্পিকিং।
মি. শুভ কথা বলতে পারলো না।আমতা-আমতা করতেই করতেই তার সময় শেষ। বাসায় ফিরে সে ভাবলো “আজ থেকে যে করেই হোক পাবলিক স্পিকিংটা শিখেই ছাড়বো”!বিকেলে আসলো আমার কাছে।
পাবলিক স্পিকিংয়ে পারদর্শী হতে হলে কয়েকটা কথা মনে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে আওড়াতে হবে।সেগুলো হলোঃ
১.সবাই আমাকে শুনছে,আমাকে ভয় পেলে চলবে না।
২.আমিই এই স্টেজের রাজা।এখানে আমার কথামতো সব হবে।আর রাজারা ভয় পায় না।
৩.আমার প্রস্তুতি আছে কিনা তা দর্শকেরা জানেনা।তাদের একথা বলবো না বরং তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলার চেষ্টা করবো।
৪.দর্শককে আমার সাথে যুক্ত করবো,তাকে কাজে লাগাবো,প্রশ্ন করবো,তাতে আমার কাজ সহজ হয়ে যাবে।
৫.আমার পা কাঁপতে পারে,হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে কিন্তু আমি তা কাউকে বুঝতে দেবোনা।
শুভ মাথা নাড়লো,মানে সে বুঝেছে।সে পাল্টা প্রশ্ন করলো ” আচ্ছা,পাবলিক স্পিকিংটা শুরু করতে আমার ঝামেলা লেগে যায়,কি থেকে কি বলবো জট পাকিয়ে যায়। কি করা যায় বলতো?
অহ আচ্ছা,এই কথা।শোন তাহলে-
বক্তব্য শুরু করার অনেক চমৎকার চমৎকার পদ্ধতি আছে।আর প্রথম ত্রিশ সেকেন্ড কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ।কারণ এই সময়ের মধ্যেই দর্শক সিদ্ধান্ত নেবে বাকি সময়টা সে তোর কথা শুনবে কিনা।তাই শুরুটা করতে হবে যতোটা পারা যায় চমৎকারভাবে।
সেটা কিরকম,শুভর চোখে কৌতুহল।
আচ্ছা শোন,সব স্পিচের খুব সাধারণ শুরু হলো নিজের পরিচয় বলে শুরু করা।এক্ষেত্রে তুই অন্যকিছু দিয়ে শুরু করতে পারিস।আচ্ছা,তোর গ্রামের বাড়ি যেনো কোথায়?
-বাগেরহাট
আচ্ছা,ধর তুই স্টেজে উঠেই প্রশ্ন করলি,”আপনারা বলেন তো ষাট গম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত””?
সবাই বলবে “বাগেরহাট”।তখনই তুই বলবি আচ্ছা,আপনারা জানেন ষাট গম্বুজ মসজিদের আসলে গম্বুজ কিন্তু একাশিটা।আমি বাগেরহাট নিয়ে এতো কথা কেন বললাম জানেন?কারণ আমার বাড়ি বাগেরহাট।
এই যে দেখ এই স্টার্টিং কি সাধারণ শুরুর চেয়ে মজার না?
আবার ধর তুই শুরু করলি একটা মজার কথা দিয়ে।এভাবে ”আপনারা জানেন কি, পৃথিবীর ৯৫ শতাংশ মানুষ পাবলিক স্পিকিংকে ভয় পায়-আমি ছাড়া!আমি মি.শুভ…..
অথবা,এভাবে….একটা মানুষ পরিশ্রমী, ধৈর্যশীল ও চিন্তাভাবনা করে কাজ করে।সে সবসময় স্বপ্ন দেখে ভালো মানুষ হবার।যে মানুষটার কথা বলছিলাম সে হচ্ছে আমি নিজে,শুভ…..
এভাবে কোনো প্রশ্ন,ফ্যাক্ট বা তথ্য কিংবা মজার কিছু দিয়ে শুরু করতে পারলে সবাই তোর প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠবে।
আর এক্ষেত্রে এবিসিডি মেথড মনে রাখতে পারিস।
A-Attention
B-Benefit
C-credibility
D-direction
আর কি করা যায় পাবলিক স্পিকিংয়ের শুরুতে?
আচ্ছা,শোন,তুই যদি শুরুতেই সবার মধ্যে একটা ভাইবস আনতে পারিস তাহলে তোর কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।এক্ষেত্রে তুই কোরাস/স্লোগান দিয়ে শুরু করতে পারিস যেটা সবাইকে উজ্জীবিত করবে।যেমনঃ
“আমরা সবাই একসাথে
জেগে উঠবো একনিমিষে”।
কিন্তু একটা কথা।প্রোগ্রামের দর্শক কারা সে বিষয়টা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে আর কথা বলার কন্টেন্ট আগে থেকে গুছিয়ে রাখা ভালো।
দর্শকদের এনগেজমেন্ট ধরে রাখবো কিভাবে?
-সে কথা পরের পর্বে বলব।সেই পর্যন্ত এভাবেই প্র‍্যাকটিস করতে থাক।
-ধন্যবাদ বন্ধু
-শুভকামনা

-Mahtab Abdullah Monjur

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *