2

পাবলিক স্পিকিংয়ের রহস্যভেদঃ পর্ব ২

পরদিন শুভ বাসায় এসে হাজির।বললো,দোস্ত,শুরু কীভাবে করতে হয় তাতো সেদিন শিখলাম।এরপর একটা কম্পিটিশনে পার্টিসিপেট করলাম।শুরু ভালোই ছিলো আমার।কিন্তু মাঝে আর দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে পারিনি।কী করা যায় বলতো?
-আচ্ছা,বুঝতে পেরেছি।পাবলিক স্পিকিংয়ের কিছু মৌলিক নীতি আছে।এগুলো মেনে চললে তোর পুরো পারফরম্যান্স হবে দেখার মত।
শোন তাহলেঃ
১.রিসার্চ ইউর অডিয়েন্স:
পাবলিক স্পিকিংয়ে যাওয়ার আগে অথবা শুরু করার আগে কাদের সামনে কথা বলবে সে বিষয়ে একটু ঘাটাঘাটি করলে খুবই ভালো হয়।এর মাধ্যমে দর্শকদের মানসিকতা আর চাওয়া বোঝা যায়।কী করলে তারা খুশি হবেন,কোন স্টাইলে কথা বললে ভালো আর কোন গল্প তাদেরকে ফিল দেবে এটা সম্পূর্ণই নির্ভর করছে তাদের রুচির উপর।তাই,অডিয়েন্সকে বোঝার কোনো বিকল্প নেই।
২.স্টার্টিং স্পিচঃ
এই বিষয়ে আগের পর্বেও বলেছি।পাবলিক স্পিকিংয়ের প্রথম কিছু সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তাই শুরুটা একটু ইন্টারেস্টিংভাবে করা গেলে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা সহজ হবে।এক্ষেত্রে শুরু হতে পারে টপিক রিলেটেড কোনো উক্তির মাধ্যমে কিংবা হতে পারে গল্প বা মজার কোনো তথ্য দিয়ে।সম্ভব হলে কোনো স্লোগান কিংবা হাতিতালি দেওয়ানোর মধ্যে দিয়েও শুরু করতে পারেন স্পিচ।
৩.হাউ টু এংগেজ ইউর অডিয়েন্স :
আপনি যখন কথা বলবেন তখন দর্শককে আপনার সাথে ধরে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে যা করতে পারেন-
*খুব পরিচিত গল্প কিংবা অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।দর্শকের ফিডব্যাক নেন।প্রয়োজনে দর্শকদের মঞ্চে আহবান করতে পারেন।ছোট ছোট খেলা খেলতে পারেন।তাতে রিক্রিয়েশনও হবে আবার দর্শকপ্রিয়তাও পাবেন।পাওয়ার অফ স্টোরি টেলিংকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগান।
*কোনো একটা রিসেন্ট ঘটনা বিশ্লেষণ করে তার উপর আপনার টপিক টা রিলেট করুন।দর্শকদের মানসিকতা বুঝে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন।
*সৃজনশীল প্রশ্ন করুন যা দর্শককে ভাবতে বাধ্য করবে।কুইজ করুন।ছোট পরিসরে পুরস্কৃত করতে পারেন।এটা দর্শককে উৎসাহী করবে।
*প্রতিটা কথায় চমৎকার উদাহরণ দেয়ার চেষ্টা করুন।দর্শকের ফিডব্যাক নেন।মনে রাখবেন দর্শকই আপনার প্রাণ।
৪.নোয়িং ইউর ভেন্যুঃ
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।আপনি যেখানে বা যে ভেন্যুতে কথা বলবেন ঐ ভেন্যু সম্পর্কে আগে থেকে খোজ-খবর নেয়ার চেষ্টা করবেন।পারলে আগে থেকে মঞ্চটা দেখে আসবেন।স্টেজের উপরে হাটবেন।তাতে সাহস বাড়বে,জড়তা কমবে।
৫.রিসার্চ ইউর টপিক:
আপনি যে বিষয়ে কথা বলবেন ঐ বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণ পড়াশোনা করে যান।পরিসংখ্যানিক তথ্যগুলো ভালো মত মনে রাখুন।আর মনে রাখবেন,যত পড়বেন,যত প্র‍্যাকটিস করবেন ততই ভালো হবে আপনার পারফরম্যান্স।
৬.যোগাযোগঃ
পাবলিক স্পিকিংকে দ্বিমুখী যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করুন।দর্শকের সাথে সার্বক্ষণিক ফলো আপ বজায় রাখবেন।এটা কিন্তু আপনার জন্যে বড় একটা সুযোগ অনেকগুলো মানুষের সাথে একবারে নেটওয়ার্কিং করার।
৭.স্টেজে রাজত্ব করুন,নিজের করে নিনঃ
যতক্ষণ মঞ্চে আছেন,আত্নবিশ্বাসী হোন।আপনার প্রস্তুতি আছে কি নেই এটা কোনো ব্যাপারই না।ব্যাপার হচ্ছে আপনি তাৎক্ষণিক ভাবে পরিস্থিতি কতটুকু হাতে রাখতে পারছেন।দিনশেষে যতক্ষণ মঞ্চে আছেন ততক্ষণ আপনিই রাজা এটা মনে রাখবেন।
৯.হাসিঃ
হাসি আপনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মুচকি হাসি দিন।সবার সাথে সৌজন্যবোধ প্রদর্শন করুন। আপনার সম্মান বাড়বে আর পাবলিক স্পিকিংয়ে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে নিশ্চিতভাবেই।
বুঝলি শুভ, এই জিনিসগুলো খেয়াল রাখবে পাবলিক স্পিকিংয়ের সময়।এর মাধ্যমে সহজেই দর্শকের মন জয় করা সম্ভব।আর স্পিচ কিভাবে শেষ করতে হয় সেটা পরদিন(আগামি পর্ব) বলবো।কেমন?
-ঠিকাছে।ধন্যবাদ ভাই।
আর হ্যা,রেগুলার প্র্যাকটিস করো কিন্তু।এগুলোকে আয়ত্তে আনতে রেগুলার প্র্যাকটিসের বিকল্প নেই।
শুভকামনা।
হ্যাপি রিডিং।
-Mahtab Abdullah Monjur

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *