1

“ডার্ক মার্কেটিং”

ডার্ক মার্কেটিং হলো এক ধরণের অনলাইন বিজ্ঞাপন যা কেবলমাত্র বিজ্ঞাপনের প্রকাশক এবং যাদেরকে টার্গেট করা হয় তাদের কাছে দৃশ্যমান হয়।

ডার্ক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে মার্কেটার গ্রুপগুলো বিভিন্নভাবে টার্গেটকৃতদের বিজ্ঞাপন পাঠাতে থাকে। যা বিজ্ঞাপন প্রচারের সাফল্যের হার বাড়িয়ে তোলে। ডার্ক মার্কেটিং সাধারণত অনলাইন সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে কাজে লাগিয়ে করা হয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো তারা কিভাবে নির্দিষ্ট মানুষদেরকেই তাদের টার্গেটে পরিণত করে?
এর উত্তর খুব সোজা। এক কথায় বলতে গেলে বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।

বিশদভাবে বলতে গেলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং জিপিএস টেকনোলজি কাজে লাগিয়ে এই অসম্ভব কে সম্ভব করা হয়েছে। আমাদেরকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমাদের গতিবিধি, আচার-আচরণ, ভৌগোলিক অবস্থান লক্ষ করা হচ্ছে। ফলে খুব সহজেই জিওটার্গেটিং, বিহেভিওরাল টার্গেটিং, এজ টার্গেটিং এবং সাইকোলজিকাল টার্গেটিং করে বিজ্ঞাপনগুলো পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে আমাদের চোখের সামনে।

এ পর্যায়ে প্রশ্ন জাগে যে তারা কেন আমাদের টার্গেট করল বা কোন বিশেষ ব্যক্তিকেই কেন টার্গেট করা হলো?

ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে যে কোন প্রয়োজনেই হোক আমরা প্রতিনিয়ত সার্চ করে চলেছি বিভিন্ন ধরনের বিষয়ে। যখন আমরা সার্চ করি তখন এটি রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে আমরা যখন ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ঢুকি তখন বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান আমাদের চোখের সামনে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপনগুলো পাঠিয়ে দেয়। তারা বিজ্ঞাপনগুলো দেখতে কিছুটা বাধ্যও করে।

চলুন একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বিষয়টিকে আরও পরিষ্কার করা যাক।

ধরুন আপনি একটি মোবাইল ফোনের কনফিগারেশন জানার জন্য গুগলে সার্চ দিলেন। ফোনের কনফিগারেশন জানার পর আপনি গুগল থেকে বের হয়ে গেলেন। এর‌ কিছুক্ষণ পর ফেসবুকে ঢুকলেন। নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আপনার সামনে একটু পর পর বিভিন্ন মোবাইল ফোন‌ কোম্পানির‌ বিজ্ঞাপন চোখে পরছে। কারণ তারা ধরে নিয়েছে যে আপনি অতি শীঘ্রই একটি ফোন কিনতে যাচ্ছেন। তারা আপনাকে ‌টার্গেট করে ফেলেছে এবং আপনাকে ফোনের বিজ্ঞাপনগুলো দেখাচ্ছে। এটিই মূলত ডার্ক মার্কেটিং এর সাধারণ প্রক্রিয়া।

ডার্ক মার্কেটিং কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের উপকার করছে আবার কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিও করছে। কোম্পানিগুলো আমাদের গতিবিধির উপর প্রতিনিয়ত নজর রাখছে যার ফলে আমাদের প্রাইভেসি নষ্ট হচ্ছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর মধ্যে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে যা তাদের পণ্যের গুণগত মান কমিয়ে দিচ্ছে এবং গ্রাহকরা বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
এখনই সময় সচেতন হওয়ার।

মোঃ জাওয়াদ উদ্দিন
জুনিয়র এক্সিকিউটিভ,
কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট টিম

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *