78

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্বঃ

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্বঃ
প্রথমবার শুনলে মনে হবে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আবার নেটওয়ার্কিং লাগবে কেন?প্রথমবার শুনলে এটাকে সময় নষ্টই মনে হবে। কিন্তু আজকের এ বিশ্বায়নের যুগে নেটওয়ার্কিয়ের কোনো বিকল্প নেই।বলা হয়,”আজকের সময়ে একজন ছাত্র দিনের অর্ধেক সময় পড়াশোনা করবে আর অর্ধেক সময় নেটওয়ার্কিং করবে”।আসুন এর সত্যতা যাচাই করি।
আজকের যুগের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য সমাজসেবামূলক ভলান্টারি কাজ করা ম্যান্ডেটরি হয়ে গেছে।বিভিন্ন কাজের খাতিরে অনেক জায়গায় যেতে হয়,অনেক রকম কাজ করতে হয়। এসব কাজে পূর্ব-পরিচিত লোক থাকলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।
ভলান্টারি কাজগুলো ভালোভাবে করতে পারলে বড় বড় মানুষজনের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়ে।তাতে ভবিষ্যতে নানা ধরনের কাজের সুযোগ পাওয়া যায়।ইন্টারনির সুযোগও পাওয়া যায় চেনা-জানা থাকলে।মজার বিষয় হচ্ছে নেটওয়ার্কিং ভালো থাকলে অনেক সময় ইন্টারভিউ বোর্ডেও খুব পরিচিত মানুষের সাথে দেখা হয়ে যায়। তাতে ভীতি কেটে যায় এবং জব পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।
নেটওয়ার্ক শক্তিশালী থাকলে প্রফেশনাল ওয়ার্ল্ডে আগে থেকেই কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায় আর অভিজ্ঞতাও অর্জন করা যায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে প্রত্যেকের জীবনে একজন গাইড বা মেন্টর থাকা খুব জরুরি। নেটওয়ার্কিং করলে পছন্দমতো মেন্টর পাওয়া এবং তার কাছ থেকে সব ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়। এসব পরামর্শ জীবনে অনেক বেশি কাজে দেয় এবং ভুল পথে এগোনো থেকে রক্ষা করে।
নেটওয়ার্কিং শক্ত থাকলে এবং কমিউনিকেশন কন্টিনিউ করলে প্রত্যক্ষভাবে অনেক কাজের সুযোগ পাওয়া যায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে জব পেতে প্রসিডিওর ও ফলো করার দরকার পড়েনা।
এছাড়া নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে একজন হয়ে আরেকজন এই চেইনে নতুন নতুন মুখের সাথে পরিচিতি ঘটে যা জীবনের অনেক ক্ষেত্রে কাজে লাগে।
নেটওয়ার্কিংয়ে ভাব এবং ধারণার বিনিময় হয়।তাতে অনেক কিছু শেখার পাশাপাশি মানুষের মনস্তত্ব বোঝা যায়।এটি কমিউনিকেশন স্কিল কে সরাসরি ব্রাশ-আপ করে।পেশাজীবনে এগুলো খুবই দরকার।
তাছাড়া এর মাধ্যমে আগ্রহের জায়গা এবং ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে জানা যায় এবং ঐ ক্ষেত্রগুলোতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়।
নেটওয়ার্কিং উইন-উইন সিচুয়েশন তৈরি করে যার ফলে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হয় যা ব্যবসায় কে গতিশীল করে।
নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হলে ব্যবসায়ে গ্রাহক এবং বিক্রয় একক সহজেই বাড়ানো যায়।
সেল্ফ ব্রান্ডিং করা অনেক সহজ হয়ে যায় যাতে আপনি সহজেই বড় জায়গায় রিচ করতে পারেন। নেটওয়ার্ক শক্তিশালী থাকলে আপনার কোনো ভালো কাজ সহজেই বড় বড় মানুষের দৃস্টি আকর্ষণ করবে।একটা শক্তির নেটওয়ার্ক আপনাকে আপনার ক্যারিয়ার চয়েসে এবং গঠনে সব দিক থেকে হেল্প করবে।
সর্বোপরি নেটওয়ার্কিং আপনার জন্য এমন এক সার্কেল তৈরি করবে যার সাহায্য নিয়ে আপনি অনেক বড় কাজও দ্রুততম সময়ে সুন্দরভাবে করে ফেলতে পারবেন।এছাড়া ক্যারিয়ারের বিষয়গুলো তো আছেই।তাই,শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কিং এক চমৎকার পন্থা যা দিয়ে সে পৌছতে পারবে উন্নতির চরম শিখরে।
নেটওয়ার্কিয়ের পদ্ধতি আরেকদিন আলোচনা করব ইংশা আল্লাহ।সে পর্যন্ত ভালো থেকো সবাই।
-Mahtab Abdullah Monjur

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *