1

ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কিছু কথা:জীবন থেকে নেয়া

The End!
কি ভাবছেন? সব শেষ?
না! এটা সবে শুরু!
সাধারণত কোন কিছু শেষ হলেই আমরা বলে থাকি “The End” বা “শেষ”।
কিন্তু, শেষ মানেই কি সব শেষ? আপনার কি মনে হয়?
আমার কাছে কিন্তু মনে হয় শেষ মানেই শেষ না!
আমরা যদি একটু অন্য ভাবে চিন্তা করি তাহলেই পাওয়া যাবে এর উত্তর।
প্রকৃত অর্থে, কোন কিছুই শেষ হয় না বরং শুরু হয় নতুন ভাবে। যেমন ধরুন একটি বছর শেষে অন্য একটি বছর শুরু হয়। আবার, একটি ঋতুর শেষে শুরু হয় অন্য আরেকটি ঋতু।
এবার‌ আপনার-আমার জীবন নিয়ে চিন্তা করি। আমাদের জন্মের পর সময়ের সাথে সাথে আমারা বড় হতে থাকি। শৈশব পেরিয়ে কৈশোর, কৈশোর পেরিয়ে যৌবন আর যৌবন পার করে পদার্পণ করি বার্ধক্যে। এভাবেই একদিন আমাদের মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর পর কিন্তু সব শেষ হয়ে যায় না বরং শুরু হয় নতুন নতুন এক জীবন!
কিন্তু এসব কথার মানে কি?
আসলে আপনি যদি উপরের উদাহরণ গুলো নিয়ে একটু ভিন্ন ভাবে চিন্তা করেন তাহলে পেয়ে যাবেন এর মানে।
আমরা অনেক সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হতাশ হয়ে যাই, ভেঙ্গে পরি। আমরা ভাবি যে সব শেষ হয়ে গেছে। আমাদের ঘিরে ধরে বিফলতার গ্লাণি। জীবনটা হয়ে যায় বিসাদময়।
এই পরিস্থিতি গুলোকে সামাল দিতে পারে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স!
একজন ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্ট মানুষ সহজেই নিজেকে সামলে নিতে পারেন এসকল সমস্যা থেকে।
কিন্তু তারা কিভাবে এই কঠিন পরিস্থিতিকে সামাল দেন?
আসুন জেনে নেই এ সম্পর্কে। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এর ৫ টি কম্পোনেন্ট আছে। এগুলো হলোঃ
১. আত্ম-সচেতনতা
২. স্ব-নিয়ন্ত্রণ
৩. সামাজিক দক্ষতা
৪. সহানুভূতি
৫. প্রেরণা
এই পাঁচটি বিষয়কে কাজে লাগিয়ে আপনি খুব সহজেই নিজেকে সামলে নিতে পারবেন যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে।
সর্বপ্রথম আপনাকে হতে হবে আত্ম-সচেতন একজন ব্যক্তি। এজন্য প্রয়োজন নিজেকে জানা। নিজেকে না জানলে কখনোই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আর নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাই হলো স্ব-নিয়ন্ত্রণ। পরবর্তীতে আসে সামাজিক দক্ষতা। মানুষ একটি সামাজিক জীব। আপনার ব্যক্তিগত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আপনাকে অবশ্যই সামাজিকতা রক্ষা করে চলতে হবে। আর সমাজের সাথে মানিয়ে চলার জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন তাই হলো সামাজিক দক্ষতা। আপনাকে অবশ্যই সহানুভূতিশীল হতে হবে। কারণ যদি অন্য কারো প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন তাহলে সেও আপনার বিপদে আপনার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করবে যা আপনাকে হতাশা হতে কিছুটা হলেও মুক্তি দিবে। সবশেষে যেটা খুবই প্রয়োজন সেটা হলো প্রেরণা। আপনি যদি কোন বিষয় নিয়ে হতাশ হয়ে যান, বিফলতা যদি আপনাকে গ্রাস করে ফেলে তাহলে আপনি ফিরে তাকান আপনার পূর্বের সফলতা গুলোর দিকে যা আপনাকে প্রেরণা যোগাবে। আপনাকে নতুন ভাবে সব কিছু শুরু করার অনুপ্রেরণা যোগাবে।
তাহলে, আজ থেকে আর হতাশা নয়। যেকোনো কিছুকে দেখুন ভিন্ন ভাবে। সবকিছু শেষ হয়ে গেছে এটা না ভেবে ভাবুন নতুন করে কোন কিছু শুরু হতে যাচ্ছে। তাহলেই দেখবেন জীবনটা সহজ হয় যাচ্ছে, খুলে যাচ্ছে সম্ভাবনার দুয়ার।

মোঃ জাওয়াদ উদ্দিন
জুনিয়র এক্সিকিউটিভ,
কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট টিম

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *